,

মিরপুরে সন্ত্রাসী জনির অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট

মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউপি’র সাবেক সদস্য তেঘরিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে সন্ত্রাসী, শিশু ধর্ষণ সহ একাধিক মামলার আসামী। জাহিদুল ইসলাম জনির চাঁদাবাজী মামলা ও হামলার অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে পরেছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ জনি নিজ নামে এলাকায় বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তার বাহিনীতে প্রায় ৩০-৪০ জন সদস্য রয়েছে। এ সকল সদস্যদের ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে চাঁদাবাজী সহ শালিশ বিচারের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, জনি ও তার পিতা রুহুল আমিন এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে বাপ-বেটা দুই পক্ষে অবস্থান নিয়ে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্ট সহ উভয়ের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেই। এছাড়াও সূত্রে আরো জানায় ইতিপূর্বে আহম্মদপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের সাথে জনি যোগসাজসে সাধারণ মানুষদের পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে টাকার বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। জনি ২ বছর পূর্বে তেঘরিয়া গ্রামের জৈনক ব্যক্তির ৭ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করলে এ ব্যাপারে থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৪-৫ টি মামলা রয়েছে। তার ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে পারে না। পার্শ্ববর্তী কেউপুর মৌজায় ইট ভাটার মালিক সেলিম আহমেদ বিশ্বাস জানান, রুহুল মেম্বার ও তার ছেলে জনি প্রতিবছর এন বি ইট ভাটা চালানোর জন্য (সেলিম আহমেদ) কাছ থেকে ৫০ হাজার চাঁদা দিতে হতো। তিনি আরো জানান রুহুল মেম্বার জাসদের মিটিং মিছিলের জন্য (সেলিম আহমেদ) এর ইট ভাটা থেকে লেবার নিয়ে যেত। অন্য দিকে তার ছেলে জনি আওয়ামীলীগের মিটিং মিছিলের জন্য লেবার নিয়ে যেত। তারা বাপ-বেটা পোড়াদহ ইউপি আওয়ামীলীগ ও জাসদের নেতাদের নির্বোধ বানিয়ে এলাকায় সাধারণ মানুষদের জিম্মি করেছে। তেঘরিয়া গ্রামের রুকমান প্রামানিক বলেন রুহুল মেম্বার ও তার ছেলে জনির কোন ব্যবসা বাণিজ্য এমন কি কোন কাজ করে না। তেঘরিয়া গ্রামের মৃত ওসমান আলী প্রামানিকের ছেলে সাগিত আলী, মৃত সৈয়দ আলী প্রামানিকের ছেলে আব্দুল হান্নান, মৃত ওয়াজ আলী প্রামানিকের ছেলে মহাম্মদ আলী, পার্শ্ববর্তী ফকিরাবাদ গ্রামের ওয়ারেশ আলী মন্ডলের ছেলে আরজেদ আলী ও কেউপুর গ্রামের ওসমান আলীর স্ত্রী সাজেদা খাতুন জানান কেউপুর মৌজায় বিভিন্ন দাগে প্রায় পৈত্রিক নিজস্ব ২০ বিঘা জমি আমরা এম আর এম ভাটা মালিক মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার দিং কাছে ১০ বছরের জন্য টাকা নিয়ে লিজ দিয়েছি। এ ব্যাপারে এম আর এম ভাটার পক্ষ থেকে তজির উদ্দিন জানান জনি এম আর এম ভাটার ১২৩৭ দাগে নাদিমের কাছ থেকে নেওয়া লীজকৃত জায়গায় রাস্তা করতে না দিয়ে গত ০৬/০৯/২০২০ ইং তারিখে জনি আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ব্যাপারে আমি মিরপুর থানায় গত ০৮/০৯/২০২০ ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। জানান শুধু এলাকায় আদিপত্য খাটিয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজী করে চলে। তেঘরিয়া গ্রামের আবুল মন্ডলের ছেলে আসাদুল, হামজা প্রামানিকের ছেলে বিল্লাল, রিয়াজ প্রামানিকের ছেলে হারুন, সাহাদত প্রামানিকের ছেলে নাদের ও জিয়া জনির বাহিনীর অন্যতম সদস্য। এদের মাধ্যমে এলাকায় কৃষি কাজে ব্যবহৃত স্যালো মেশিন চুরি, গরু চুরি সহ নানা অপকর্ম করে থাকেন। কিছুদিন আগে তেঘরিয়া গ্রামের নুরুজ্জামান পটল ও জাকিরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জোরপূর্বক তার বাহিনীর সদস্যরা ছিনিয়ে নেয়।


     এই বিভাগের আরো খবর