,

নব্য এমপি মন্ত্রীদের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ

মেহেদী হাসান

বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ এর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের পূর্বে দেশের চায়ের স্টল থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টরেই ছিল নানা গুঞ্জন। কি হবে বা কি হতে চলেছে এ নির্বাচনে। পাশাপাশি জনমনে ছিল কিছুটা আতংকও। তবে সব কিছু পেরিয়েই সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেছে নতুন-পুরাতন অনেক রাজনৈতিক সংগঠন। জল্পনা-কল্পনা ছাড়িয়ে জনপ্রিয় সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ পেয়েছে তাদের সঠিক কর্মের ফসল। তবে বহু চেষ্টার পরেও সরকার গঠনতো দুরের কথা বিরোধী দলেও ঠাই হয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিনএনপি’র। বিরোধীদল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ভুল করেনি জাতীয় পার্টি। মহাজোটে থেকেও অনেক ত্যাগ শিকার করে নিয়েছেন তারা। এবারের নির্বাচনে প্রায় সব দলেই বেশির ভাগ প্রার্থী ছিল নবীনরা। তাদের নিয়ে নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে শঙ্কায় ছিল অনেকেই। তবে তাদের নিজস্ব জনপ্রিয়তা আর তাদের আশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই জনগন ভরসা রেখে সংসদ নির্বাচনে জয়ী করেছেন এমনটাই মন্তব্য অনেকের। নির্বাচনের পূর্বে ছিল অনেক বাধা বিপত্তি আর গুঁজব। তবে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করেই নির্বাচন কমিশন দেখিয়েছেন তাদের নিরপেক্ষতা। ফলাফল পরিশেষে টানা তৃতীয়বারের মত বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। এরই পাশাপাশি রেকর্ড গড়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা বঙ্গবন্ধু কন্যা ডঃ শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। শেষ হল সকল সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ। তারপর দেশের সকলের চোখ ছিল সংসদের মন্ত্রীসভার দিকে। অনেকেরই ভাবনা ছিল এবারের মন্ত্রীপরিষদ হয়তো অভিজ্ঞ ও দক্ষদের হাতে তুলে দিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যতীত মন্ত্রীসভার পূর্ণ মন্ত্রী ২৪ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৯ জন ও উপমন্ত্রী হিসেবে ৩ জনের নাম ঘোষণা করা হল ৬ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ। এ ঘোষণায় হতবাক পুরো দেশ। যেখানে নাম ছিলনা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসাদুজ্জামান নুর, আলোচিত শাহজাহান খান ও হাসানুল হক ইনুসহ অনেক ত্যাগী ও মেধাবী সাবেক মন্ত্রী এবং নেতাদের নাম। সর্ব স্তরেই চলছিল কানাঘোষা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাকি কোন ভুল হয়ে গেল। এ বিষয়ে কোন সিনিয়র নেতারাও কথা বলছে না। এরই মধ্যে পরদিন ৭ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রীসভার সদস্যগণ শপথ গ্রহন করেন। নতুন মন্ত্রী পরিষদে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ-এমপি। দীর্ঘদিন তিনি রাজনৈতিক মাঠ চষে বেড়ানোর পর এই প্রথমবারের মত তিনি গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পান। মন্ত্রীসভার একজন শ ম রেজাউল করিম। তিনি নতুন মন্ত্রীসভার একজন। দায়িত্ব পেয়েছেন গৃহায়ন ও পূর্ত মন্ত্রনালয়ের। এবার প্রথমবারই সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি। পিরোজপুর-১ আসন থেকে নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন শ ম রেজাউল করিম। তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত একজন আইনজীবী। শ,ম রেজাউল করিম ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ড. আবদুর রাজ্জাক। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে মতিয়া চৌধুরীকে বাদ দিয়ে ড. আবদুর রাজ্জাককে করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রী। নবম সংসদের পাঁচ বছর খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা টাঙ্গাইল-১ আসনের আবদুর রাজ্জাক দশম সংসদ নির্বাচনের পর বাদ পড়ে যান। ড. আবদুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনে একজন বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০০১ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদের প্রধান বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীজীবন শেষ করেন। নতুন মন্ত্রীসভা থেকে বাদ বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদ এর পরিবর্তে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুনশিকে করা হয় বাণিজ্যমন্ত্রী। শরীয়তপুর-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীমকে করা হয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী। এনামুল হক শামীম স্কুলজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল। জাহিদ আহসান রাসেল গাজীপুরের জনপ্রিয় মুখ শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টারের বড় ছেলে। এছারাও আরও অনেকেই প্রথমবারের মত মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। এখানেই শেষ নয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে এসেছেন অনেক নব্য এমপি। যারা অনেকেই যুক্ত ছিলেন না রাজনীতির সাথে। তাদের মধ্যে জনপ্রিয় মুখ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন তিনি। জনগনের জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই রাজনীতিতে এসেছেন এই নবীন সংসদ সদস্য। শেখ সারহান নাসের তন্ময়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরের ছেলে শেখ হেলাল উদ্দীনের একমাত্র ছেলে তিনি। কয়েকটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে তার সরব উপস্থিতি ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাচনভঙ্গিতে দেওয়া বক্তৃতা নজর কেড়েছে সবার। তিনি বাগেরহাট-১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। নির্বাচনের পূর্ব থেকেই দেশের মানুষের জন্য কিছু করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল এই হাস্যজ্জল চেহারার নব্য এমপি। শুধু মাশরাফি ও তন্ময়ই নয় রয়েছে আরও অনেক নব্য সংসদ সদস্য যাদের উপর নির্ভর করছে বর্তমান ও আগামির এই সোনার বাংলা। তারা কি পারবে তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে নাকি মাঝ পথে গিয়ে গিরগিটির মত পালটে যাবে তাদেরও চেহারা। এমন জল্পনা-কল্পনা এখন পুরো দেশ জুড়ে। বিগত ১০ বছরে যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারাও কি এই অগ্রযাত্রার নৌকার মাঝি হয়ে সকল বাধা বিপত্তি কাটিয়ে জাতীকে উপহার দিতে পারবে সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশ। পুরো দেশবাসি এখন তাকিয়ে আছে এই নব্য এমপি মন্ত্রীদের দিকে। সকলের প্রত্যাশা এ দেশে আর কোন পেট্রোল বোমার ঝলসানো রুপ যেন না আসে। যেন সকালের সূর্যে না থাকে রক্তের দাগ। বেলা শেষে এতিমরাও যেন ঠাই পায় এই নব্য এমপি মন্ত্রীদের বুকে। যেন থেমে না যায় শেখ হাসিনার কষ্টের অর্জন ও অগ্রগতি। বেকারাও যেন ব্যাস্ত সময় পার করে জীবন চালাতে পারে সৎ উপায়ে। যেন প্রতিটি নব্য এমপি মন্ত্রীদের মাথার উপর ভর করে একটি মুজিব।

লেখক:
মেহেদী হাসান , নিউজরুম এডিটর, এসটিভি বাংলা


     এই বিভাগের আরো খবর