,

পাখি প্রেমী এস.আই সোহেলের অন্যরকম গল্প…

এস আই সুমন – হাঁসি খুশি একটা মানুষ, প্রকৃতি প্রেমই যার কাছে অন্যরকম ভালো লাগা, ক্যামেরার প্রতিটি ক্লিক যেনো একটা একটা প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্যের জয়গান গায়, পেশায় ফটোগ্রাফার হলেও প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখন যে এটা প্রতিটি নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে আর ঘুমের মাঝেও স্বপ্নের ঘোরে বিচরণ করে সেটা অজানায় রয়ে গেছে। সেই প্রকৃতির অন্যতম উপাদান

হলো পাখি, কুয়াশা ঢাকা প্রথম সূর্যদোয় থেকে শুরু করে পড়ন্ত বিকেলের গোধূলি লগ্ন সব ক্ষেত্রেই রয়েছে পাখির বিচরণ। আর পাখি তথা প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য তুলে ধরতেই যার নিরলস ভাবে কাজ করা।
পাখি যেনো তার পরিবারের একজন। পরম মায়া, মমতা আর স্নিগ্ধ ভালবাসা নিয়ে যার পাখিদের সাথে গড়ে উঠেছে পারিবারিক সখ্যতা। তার বাড়িতে গেলেই দেখা হয়। এই পাখি প্রেমী একজন সরল মনের মানুষের সাথে। হ্যাঁ বলতে ছিলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা তথা কুষ্টিয়া জেলার কৃতি সন্তান এস, আই সোহেল। হাসিখুশি ভরা মুখটা নিয়ে প্রথমেই আলাপ হয় পাখির প্রতি কৌতুহল কিভাবে হলো? হাঁসি মুখে পরম তৃপ্তিতে তিনি জানান, শৈশব কৈশোর কেটেছে তাঁর জন্মস্থান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা ও গড়াই নদীর তীরে।সে সময় বন্ধুদের সাথে চলে যেতেন পদ্মা নদীর চরের কাশবনে। খুঁজে বেড়াতেন বুনো পাখির ছানা। পরিবারের মানুষদের শিকার করতে দেখে দেখে, শিকারের প্রতি হন আকৃষ্ট। পরবর্তী সময়ে কোন এক বিশেষ কারনে পাখি ও বন্য প্রণীদের প্রতি তার জন্ম নেয় অদম্য ভালবাসা। আর সেই থেকেই শুরু হয় তার প্রকৃতি ও বিশেষ করে পাখি সংরক্ষনের কাজে পথ চলা। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর ধরে এ কাজে অবদান রেখে চলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ভাবে প্রকৃতি ও পাখি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় গড়ে তুলেছেন একাধিক সংগঠন। বাড়ির চারপাশে পাখি থাকার পরিবেশ করার জন্য তিনি নিজ উদ্দ্যোগে এবং পরিবারের সকলের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন পাখিদের অভয়ারণ্য। বাড়ির ছাদ, গাছের ডাল সব জায়গায় রয়েছে পাখিদের বসবাসের জন্য মাটির কলস দেওয়া। তিনি শুধুমাত্র বাড়িতেই প্রকৃতি প্রেম তথা পাখির অভয়ারণ্য করেন নি। বরং কুষ্টিয়ার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং স্বেচ্ছায় অনেকে এই মহৎ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকাতে নিয়মিত প্রকৃতি সংরক্ষনের বিষয়ে কলাম লিখেন তিনি। দেশে বিদেশে প্রদর্শিত হয়েছে তার তোলা বিরল প্রজাতির পাখির ছবি। তিনি সুন্দরবন, সাতছড়ি অভায়রণ্য, লাওয়াছড়া অভায়রন্য, রেমাকেলেংগা বন, টাঙ্গুয়ার হাওর, বাইক্কা বিল, নিঝুম দ্বিপ, হাকালুকি হাওড়, বঙ্গপোসাগরের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, বঙ্গপোসাগরের বিভিন্ন সৈকতে ও উপকূলে পাখি শুমারী করছেন নিয়মিত। পাখি ও প্রকৃতি নিয়ে রয়েছে তার অনেক গবেষনা। বাংলাদেশের হাওর বাওর পাহাড় সমুদ্র পাখিদের জন্য সবখানে রয়েছে তার পদচারনা। স্বীকৃতি হিসেবে দেশে বিদেশে পেয়েছেন অনেক সন্মাননা। পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে পেয়েছেন সন্মাননা পদক। তিনি ইংল্যান্ড ভিত্তিক বিশ্বের সব চেয়ে বড় পাখি গবেষনা প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্টাল ক্লাবের সদস্য। এছাড়াও এস আই সোহেল বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের নির্বাহী সদস্য এবং কুষ্টিয়া বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। স্বপ্নবাজ এই মানুষটি বাকি জীবন পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় আন্দোলন করার জন্য তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি পাখি পর্যবেক্ষণ ও পাখি সংরক্ষণে এ বছরে ভারত থেকে সন্মাননা পেয়েছেন।


     এই বিভাগের আরো খবর