,

নির্বাচনে পুলিশের দায়িত্ব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ সদর দফতর ২৪টি নির্দেশনা প্রদান করে নিজ বাহিনীর সদস্যদের তা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- পেশাদার অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযানে জোর দেয়া, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও রেঞ্জ ডিআইজি কর্তৃক ১২ ঘণ্টা পরপর এলাকার তথ্য হালনাগাদ করে তা সদর দফতরে জানানো, ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া কাউকে আটক বা গ্রেফতার না করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, হটস্পট চিহ্নিত করে টহল জোরদার, কোনো বাড়িতে নতুন ভাড়াটিয়া এলে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা ইত্যাদি। নির্দেশনায় পলাতক ও জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গিদের গ্রেফতার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি কোনো গোষ্ঠী যাতে অবৈধভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আনতে না পারে সেজন্য সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর রাখা এবং চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনো কারণে আশ্রয় শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের বের হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকার কথাও বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট- নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করতে যেসব বিষয় নজরে আনা প্রয়োজন, মূলত সেসব পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব শুধু পুলিশ বাহিনীর একার নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোরও অনেক কিছু করণীয় রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে এবং রাজনৈতিক দলগুলো কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহারের বৃত্ত থেকে মুক্ত হতে পারলে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব নয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না- অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে পুলিশ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ দায়িত্ব তারা কতটা পালন করতে পারবেন- এ নিয়ে অনেকের, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর সংশয় রয়েছে। এ সংশয় দূর করা জরুরি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করা হচ্ছে- তাদের নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেফতার করা হচ্ছে; তাদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে।

পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ খণ্ডাতে হলে এ বাহিনীকে অবশ্যই নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। একইসঙ্গে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের যে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে, আমরা আশা করব পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনার পর এমন অভিযোগ আর তাদের বিরুদ্ধে উঠবে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি, উৎকণ্ঠা ও সংশয় বিরাজ করছে ভোটারদের মনে। এ ভয়-ভীতি ও সংশয় দূর করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন যদি এখন থেকেই শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করতে থাকে, তাহলে অনতিবিলম্বেই সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

আমরা আশা করব, পুলিশ সদর দফতর যে ২৪ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছে, বাহিনীর সব সদস্য তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করবেন। মনে রাখতে হবে, এটা শুধু পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তির সঙ্গেই সম্পর্কিত নয়, গণতন্ত্র ও আগামী দিনে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও এটি অনন্য ভূমিকা রাখবে।


     এই বিভাগের আরো খবর