,

শিক্ষায় এগিয়ে হাসিনা, মামলায় খালেদা

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হয়েছিল। তবে সবগুলোই অব্যাহতি ও খারিজ বলে নিজের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি বিচারাধীন।

খালেদার বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা হওয়ায় আসামি হিসেবে তিনি এগিয়ে আছেন। আর শিক্ষায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়া তার হলফনামায় স্বশিক্ষিত দেখালেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএ পাস উল্লেখ করেছেন। এজন্য শিক্ষায় তিনি এগিয়ে আছেন।

নির্বাচন কমিশনের কাছে দেয়া আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় এসব তথ্য দেন তারা। খালেদা জিয়া বগুড়া-৬ ও ৭ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র দালিখ করলেও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তার নির্বাচনে অংশ নেয়া অনিশ্চিত। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর-৬ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার হলফনামায় এসব তথ্য দেন।

শেখ হাসিনার হলফনামা অনুযায়ী, তার হাতে মাত্র ৮৪ হাজার টাকা। ৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় ৫ লাখ টাকা নগদ থাকলেও এবার তা কমে ৮৪ হাজার হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস এ নেতার ধানমন্ডির সুধাসদনকে হলফনামায় দেখানো হয়েছে ঠিকানা হিসাবে।

শেখ হাসিনার বছরে আয় ৭৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে কৃষিখাতে আয় ৩ লাখ টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ৬২৫ টাকা, রয়্যালিটি বাবদ আয় ১৬ লাখ ৯৬ হাজার ৯ টাকা; সঞ্চয়পত্র আমানত ১২ লাখ টাকা; সম্মানী ভাতা ১৬ লাখ ৩৮ হাজার টাকা; অন্যান্য খাতে আয় ২৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৬০ টাকা। নগদ অর্থ ৮৪ হাজার ৫৭৫ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৭ কোটি ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৩ টাকা; সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা। ৬ লাখ টাকার মূল্যমানের দানেপ্রাপ্ত যানবাহন। ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা দামের স্বর্ণালঙ্কার; ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তার ৬ লাখ ৭৮ হাজার দামের ৬ একর কৃষি জমি; ৬ লাখ ৭৫ হাজার মূল্যের অকৃষি জমি। শেখ হাসিনার কোনো দায় দেনা নেই। বর্তমানে কোনো মামলা নেই; অতীতে ২০০১-২০০৭ আমলের ১৬টি মামলার মধ্যে সবগুলোই অব্যাহতি ও খারিজ।

খালেদা জিয়ার হলফনামা অনুযায়ী কাছে নগদ টাকা আছে ৫০ হাজার ৩০০। তবে আছে ব্যাংকে আছে ৪ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার ২৬৭ টাকা। তার বাড়ি ভাড়া ছাড়া আয় নেই। তার দুটি গাড়ি আছে। গাড়ির দাম ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। সোনা আছে ৫০ তোলা। ইলেকটনিক্স সামগ্রি ৫ লাখ টাকার। আসবাবপত্র আছে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার। কৃষি জমির অর্জনকালীন মূল্য ১২ হাজাার টাকা। বাড়ির মূল্য অর্জনকালীন মূল্য ১০০ টাকা (ক্যান্টমেন্টে)। যা এখন দখলে নেই। বাড়ি বাবদ ঋণ ১ কোটি ৫৮ লাখ।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট । এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।


     এই বিভাগের আরো খবর