,

জর্জের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আ’লীগ নেতাকর্মীরা

কুমারখালী – আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নেতাকর্মীদের মাঠে নামার নির্দেশনা দিতে বিশেষ বর্ধিত সভা করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। ওই সভা থেকে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী তথা নৌকার পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মান্নান খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলীয় মনোনীত প্রার্থীর উপস্থিতিতে আমরা দলের বর্ধিত সভা ডেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দিয়েছি যে, সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবং নিজেরা ভালো থাকতে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতেই হবে। অন্যথায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হিসাবে এলাকায় পরিচয় দেওয়া কিংবা বসবাস করা সম্ভব হবেনা। আর এজন্যই আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করবে। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, নির্বাচনী আসনের সামাগ্রিক উন্নয়নে নিয়োজিত থাকবো। দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়েই সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো গতিশীল করার পাশাপাশি সুখে-দু:খে মানুষের সেবক হিসাবে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সরেজমিনে গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে আলাপকালে জানাগেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী নতুন হলেও পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে অসুবিধা নেই। কুমারখালী বাসস্ট্যান্ডের ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন জানান, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী জর্জের দাদা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’র ঘনিষ্ট সহচর ও তৎকালিন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বড় চাচা প্রয়াত আবুল হোসেন তরুণ এবং বড় চাচি সুলতানা তরুণ এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। সচেতন মহলের অনেকেই মন্তব্য করে বলেন, আমরা যেমন প্রার্থী চাই, ঠিক তেমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনেক যোগ্যতা আছে। তিনি উচ্চ শিক্ষিত ও বয়সে নবীন, এক সময়ের কৃতি ফুটবলার। আমরা মনেকরি, সেলিম আলতাফ জর্জ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি নিজের মতো কৃতি খেলোয়াড় তৈরীতে ভুমিকা রাখবেন।
অন্যদিকে, এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নিশ্চিত হয়নি এখনো। দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য (দুইবার নির্বাচিত) সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও উপজেলা বিএনপি’র জৈষ্ঠ্য সহ সভাপতি ও কুমারখালী পৌর সভার (চারবার নির্বাচিত) সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম আনছারকে। দু’জনের মধ্যে কে হচ্ছেন চুড়ান্ত প্রার্থী তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। সে কারণে দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখনো নিরব রয়েছে। তবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এই দুই নেতা নেতাকর্মীদের সাথে পৃথক পৃথকভাবে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পত্র হাতে পাওয়ার পরেই তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন বলে জানাগেছে।
সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর সমর্থকেরা জানান, এই আসনটি উদ্ধার করতে হলে দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেহেদী রুমীর বিকল্প নেই। তিনি খোকসা ও কুমারখালী উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের অতি পরিচিত এবং আস্থাভাজন নেতা। এ জন্য তারা আশাবাদী বিএনপির দলীয় মনোনয়ন সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকেই দেওয়া হবে।
এদিকে, কুমারখালী পৌর সভার চারবার নির্বাচিত সাবেক মেয়র নূরুল ইসলাম আনছার সমর্থিতরা জানান, শহর ও তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে এই আসনটি উদ্ধার করা সম্ভব বলে তারা দাবী করেন। পৌর যুবদলের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই মাখন বলেন, নূরুল ইসলাম আনছার দলীয় মনোনয়ন পেলে জামায়াতের সমর্থন ও ভোট তিনিই পাবেন। কিন্তু মেহেদী রুমীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে নিশ্চিত আসনটি হারাতে হবে। নূরুল ইসলাম আনছারের কর্মী সমর্থকেরা দাবী করেন, মেহেদী রুমী যখন সংসদ সদস্য ছিলেন তখন নানাকারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথেই তার প্রকাশ্য বিরোধ ছিল। তাই এবার তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরাই নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দুরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।


     এই বিভাগের আরো খবর