,

বাদশা’র পক্ষে তৃণমুল, মান ভাঙছে মনোনয়ন বঞ্চিতদের

টিচার ডেস্ক – রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একসময়ের তুখোড় ছাত্র নেতা সরওয়ার জাহান বাদশা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তিনি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ছিল সরব অংশগ্রহন। তবে ছাত্র রাজনীতিতে সরব থাকলেও তাঁর নিজ এলাকা কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে নেই তেমন পরিচিতি। এলাকায় খুব একটা আসেননা। বলা যায় জনবিচ্ছিন্ন তিনি। সেই বাদশাই কিনা এবার তার নিজ এলাকা কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসন থেকে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের টিকেট। বলা যায় অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তী। দলের প্রায় ডজন খানেক প্রার্থীকে পেছনে ফেলে তিনি পেয়েছেন নৌকার টিকেট। তবে নৌকার টিকেট পেলেও নৌকার দক্ষ মাঝি হতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। দক্ষ মাঝি হতে হলে তৃণমুলে পরিচিতি হতে হবে। মাঠে নামাতে হবে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদেরও। এ এক কঠিন কাজ। তাহলে কি ব্যর্থ হবেন সাবেক এই ছাত্র নেতা? না, তাকে পারতেই হবে। তুণমুলে পরিচিতি বাড়াতে হবে। মাঠে নামাতে হবে বঞ্চিতদের। তবেই সম্ভব ফসল ঘরে তোলা। সেই কাজটিই করতে হবে বাদশাকে। তবে সেই পরিস্থিতি নাকি তৈরী হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে বঞ্চিতদের পাশে পাচ্ছেন বাদশা। সেই সাথে তৃণমুলেও যোগাযোগ বেড়েছে। স্বত:স্ফূর্তভাবে কাজ করছেন বাদশার পক্ষে। শুধু তাই নয়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদেরও কাছে পাচ্ছেন তিনি।
উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ মন্ডল জানান সকল ভেদাভেদ ভুলে আমার ইউনিয়নের সকল নেতাকর্মী সরওয়ার জাহান বাদশার পক্ষে কাজ করছে। তাছাড়া সাধারণ মানুষও তাঁর পক্ষে। তাঁর সাথে নেতাকর্মীদের কোন দুরত্ব নেই। কোন গ্রুপিংও নেই। আগামী নির্বাচনে এই ইউনিয়নের মানষ তাকে স্বত:স্ফুর্তভাবে ভোট দিবে।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনেকেই এরই মধ্যে বাদশার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যারা এখানে আসেনি তারা অচিরেই চলে আসবেন প্রচারণায়। মুলত: অভিমান করেই দুরে রয়েছেন তারা। প্রতীক বরাদ্দের পরেই তারা মাঠে নামবেন।
মনোনয়ন বঞ্চিত এলাকার জনপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত সাবেক ছাত্রনেতা ড. মোফাজ্জেল হক। তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধারণ মানুষের মাঝে পৌছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এরই মধে শতাধিক পথসভা ও মতবিনিময় করেছেন দৌলতপুরে। কিন্তু এত কিছুর পরও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। তবে তাতে আক্ষেপ নেই এই নেতার। তাঁর মতে দলীয় সভানেত্রী সরওয়ার জাহান বাদশা’র প্রতি আস্থা রেখেছেন বলেই মনোনয়ন দিয়েছেন। যেহেতু জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন তাই শেখ হাসিনার প্রার্থীর পক্ষেই আমাকে কাজ করতে হবে।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া-১(দৌলতপুর) আসনের নৌকার প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা সরওয়ার জাহান বাদশা জানান জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন বলেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই। তিনি জানান এলাকার সকল মানুষ এখন একাট্টা। দলে কোন গ্রুপিং নেই। যারা মনোনয়ন পাননি তারাও আমার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তাদেরকে সাথে নিয়েই আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে চাই। তাছাড়া সাধারণ মানুষও আমার সাথে রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এলাকা ও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।


     এই বিভাগের আরো খবর