,

জামানত হারাচ্ছেন কুমিল্লার ৭৫ প্রার্থী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ৮৮ জন প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুসারে পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় ৭৫ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে। এদের মধ্যে ৯ জন বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষের প্রার্থী। বাকিরা অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।

তবে কুমিল্লা-১ ও ৮ আসনে ধানের শীষের ২ প্রার্থীর জামানত রক্ষা পাচ্ছে। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের সবকটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেলে ওই প্রার্থী জামানত ফেরত পাবেন। না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসাবে জামানত হারাচ্ছেন ১১ আসনে ৭৫ জন প্রার্থী।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান এমপি মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩ ভোট। ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৫৪২ ভোট। ড. মোশাররফ হোসেনের জামানত রক্ষা পেলেও জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বশীর আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সুলতান মহিউদ্দিন, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. আলতাফ হোসাইন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল আমিন ভুইয়া ও মহসিন উদ্দিন বেলালী।

কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী সেলিমা আহমাদ মেরী পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ১৬ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৩৩ ভোট। ভোটের বিশাল ব্যবধানের কারণে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। এছাড়াও জাকের পার্টির আবদুল লতিফ স্বপন, জাতীয় পার্টি (জেপির) মোহাম্মদ আমির হোসেন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) গোলাম মুস্তফা, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. নুরে আলম ভুইয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রবিউল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদ নগর)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপি পেয়েছেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ১৮২ ভোট এবং ধানের শীষের প্রার্থী কেএম মজিবুল হক পেয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৮ ভোট। এ আসনে জামানত হারানোর তালিকা বেশ দীর্ঘ। এ তালিকায় আছেন বিএনপির কেএম মজিবুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আহম্মদ কাইয়ূম, জাতীয় পার্টির (জেপি) কাজী জাহাঙ্গীর আমীর, জাকের পার্টির কাজী নজরুল ইসলাম, গণফোরামের মো. আকবর আমিন বাবুল, জাতীয় পার্টির মো. আলমগীর হোসেন, পিডিপির মো. কামাল উদ্দিন ভূইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী জুন্নুন বসরী, কাজী মোস্তাকীম আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ আবদুলাহ নজরুল, মো. আব্দুল কালাম আজাদ, হেলাল উদ্দিন এবং মো. আরিফুল ইসলাম।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ২ লাখ ৪০ হাজার ৫৪৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী জেএসডির আবদুল মালেক রতন পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৪৮ ভোট। জামানত হারিয়েছেন ধানের শীষ মনোনয়ন পেয়েও রহস্যজনক কারণে নির্বাচনী মাঠে না আসা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবদুল মালেক রতন। এছাড়াও রয়েছেন জাকের পার্টির মো. আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন রাজু, ইসলামী ঐক্য জোটের মো. বিন ইয়মিন সরকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মহসিন আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইরফানুল হক সরকার।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি ২ লাখ ৯০ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম ধানের শীষের অধ্যক্ষ মো. ইউনুস পেয়েছেন ১২ হাজার ১১৩ ভোট। জামানত হারিয়েছেন বিএনপির মো. ইউনুস, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবদুল্লাহ আল কাফী, জাতীয় পার্টি (জেপি) মো. তাজুল ইসলাম, জাকের পার্টির মো. নুরুল আলম ভূইয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মো. শাহ আলম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম ইদ্রিস।

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামানত হারিয়েছেন বিএনপির মো. আমিন উর রশিদ, জাকের পার্টির মো. আবুল হোসেন মজুমদার অ্যাডভোকেট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. তৈয়ব।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামানত হারানোর তালিকায় আছেন এলডিপি’র মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবু তাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবুল কালাম, খেলাফত মজলিসের মো. নোমান মাযহারী, জাতীয় পার্টির মো. লুৎফর রেজা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মো. শাহজাহান সিরাজ এবং বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সুলতান মঈন আহমেদ।

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। জামানত রক্ষা করেছেন বিএনপির জাকারিয়া তাহের। তবে জামানত হারিয়েছেন স্বাধীনতার পর সকল সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেয়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আবুল ফারাহ মো. আবদুল আজিজ। এছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের খন্দকার জিল্লুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মিজানুর রহমান, জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম মিলন, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির মো. আহসান উল্লাহ, গণফ্রন্টের মো. দুলাল মিয়া এবং জাকের পার্টির শরীফুল ইসলাম।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী তাজুল ইসলাম ২ লাখ ৭০ হাজার ৬০২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছেন। ধানের শীষের প্রার্থী এম আনোয়ার উল আজিম পেয়েছেন ১১ হাজার ৩০৯ ভোট। জামানত হারিয়েছেন বিএনপির এম আনোয়রুল আজিম, জাকের পার্টির অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মুহাম্মদ আবদুল আওয়াল, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু বকর সিদ্দিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেলিম মাহমুদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এ টি এম আলমগীর।

কুমিল্লা-১০ (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ, লালমাই ও নাঙ্গলকোট)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী আ হ ম মুস্তফা কামাল সর্বাধিক ৪ লাখ ৫ হাজার ২৯৯ ভোট পেয়ে বিজয় লাভ করেছেন। ধানের শীষের প্রার্থী মো. মনিরুল হক চৌধুরীর প্রাপ্ত ভোট ১২ হাজার ৪৮৮। জামানত হারিয়েছেন বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী, জাকের পার্টির এ কে এম আবদুল সালাম মজুমদার, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির এম অহিদুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জামাল উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এবং মো. লুৎফর রহমান।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম)

এ আসনে নৌকার প্রার্থী রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক পেয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৩ ভোট এবং এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ২৬৪ ভোট। এ আসনে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পেয়েছেন ১ হাজার ১১৩ ভোট। জামানত হারিয়েছেন বিএনপির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর মাওলানা শামসুল হক জেহাদী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. কামাল উদ্দিন ভুইয়া এবং জাকের পার্টির মো. তাজুল ইসলাম বাবুল।


     এই বিভাগের আরো খবর