,

ভ্যানচালক জিল্লু এখন ডিসি’র জামাই : সুখেই আছেন তিনকন্যা

টিচার ডেস্ক – কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে লালিত পালিত প্রতিবন্ধী ইতি খাতুনের সাথে খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের মৃত শাহাদৎ শেখের ২য় পুত্র মোঃ জিল্লুর রহমানের (৩০) বেশ ঘটা করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর অতি আনন্দে অতিবাহিত করেছেন নব দম্পতির প্রথম দিন।একই সাতে বিয়ে হয় আরো দুই কন্যার। বিয়ের পর সবারই দিন ভালো কাটলেও খোকসার জিল্লুর রহমান নিজেকে গর্বিত মনে করেন। বিয়ের পরদিন তাদের প্রথম দিন অতিবাহিত করেছেন বেশ আনন্দে

নতুন পুত্রবধুকে পেয়ে আবেগে আপ্লুত মরিয়ম বেগম নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পুত্রবধু নয় আমি একটি মেয়ে পেয়েছি। যে ভাবে ডিসি সাহেব ধুমধাম করে আয়োজন করে আমার ছেলে সাথে তার অধীনে লালিত ইতি খাতুনের বিয়ে দিয়েছেন তাতে আমি খুশি হয়েছে। ডিসি সাহেব আমার বিয়াই হয়েছেন। আমি মনে করি আমার পুত্রও তার যোগ্য সঙ্গী পেয়েছে।

জিল্লুর রহমানের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ৫ বছর আগে বার্ধক্য জনিত কারণে স্বামী শাহাদৎ শেখ মারা যাবার পর ৪ ছেলেকে নিয়ে কোনরকম দিন কাটছিল। ২ বছর আগে জিল্লুর খালাতো ভাই শহীদুল ইসলাম ভান্ডারীর ঢাকার কদমতলীর বাসায় মানসিক ভারসাম্যহীন ইতি খাতুন (১৮) এসে খাবার চায়। শহীদুল প্রতিবন্ধী ইতিকে খাবার ও সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। পরবর্তীতে শহীদুল তাকে খালারবাড়ী শোমসপুরে নিয়ে আসলে জিল্লুর মা মরিয়ম বেগম ইতিকে খোকসা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠায়। ইতিকে দেখে বাড়ির সকল সদস্যের পছন্দ হওয়ায় মা মরিয়ম বেগম তাকে তার ২য় পুত্র জিল্লুর সাথে বিয়ে দেবার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানান।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শোমসপুর জিল্লুর নতুন সংসারের খবর জানতে শোমসপুর ইউনিয়ন ভূমি আফিস সংলগ্ন বাড়িতে সরেজমিনে যেতে পথে দেখা হয় সদ্য বিবাহিত জিল্লুর রহমানের সাথে। পেশায় ভ্যানচালক জিল্লু তখন প্রতিবেশীর খড় বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল।

জিল্লু বলেন, বউ ভাল হয়েছে। ইতিকে বউ হিসেবে পেয়ে আমি খুব খুশি।

জিল্লুর বড় ভাই বেল্লাল শেখের স্ত্রী মোছাঃ হাজেরা খাতুন  বলেন, আমার দেবর কাজের ছেলে। সে একজন দক্ষ ভ্যানচালক। আমার জা’ ভালো হয়েছে। তারা সুখে সংসার করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দেবরের বিয়ে উপলক্ষে বড় বড় মানুষের সাথে দেখা হয়েছে। খুব আনন্দ পেয়েছি।

মানসিক প্রতিবন্ধী নববধু ইতি খাতুন বলেন, আমি খুব খুশি। আমার স্বামী আমাকে খুব ভালোবাসে। শাশুরী, জা এরাও আমাকে ভালোবাসেন।

জিল্লুর বাড়িতে সদ্য বিবাহিত জিল্লু-ইতি দম্পতির দাম্পত্য জীবনের খোঁজখবর নিতে যাওয়া খোকসা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার যুঁথি বলেন, ইতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সংসার করার জন্য জিল্লুর পরিবারের সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছি। কোন আসুবিধা হলে আমাকে জানানোর জন্য আমার সেলফোন নম্বর দিয়ে এসেছি

উল্লেখ্য গত রবিবার কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান বেশ ধুমধাম করে তিন মেয়েকে বিবাহ দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত গড়েছেন। দিয়েছেন কণ্যার স্বীকৃতি। সেই তিন কণ্যার মধ্যে ইতি’ও একজন। ইতির স্বামীর বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা শোমসপুর।


     এই বিভাগের আরো খবর