,

স্ত্রী’র স্বীকৃতির দাবিতে কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকতার কার্যালয়ে এক নারী

টিচার ডেস্ক – কুষ্টিয়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে প্রতারনার অভিযোগ করেছেন সালমা বেগম নামে এক নারী। তার দাবি বিয়ের প্রতিশ্র“তি দিয়ে কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খান তার সাথে দীর্ঘ ১০ বছর স্বামী-স্ত্রীর ন্যায় বসবাস করে আসছে। তাদের ৫ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও আছে বলে দাবি করেছেন ঐ নারী। ঐ নারীর বক্তব্য ভিত্তিহীন দাবি করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খান বলছেন তার কাছে থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিতে ঐ নারী প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছেন। স্বামী পরিত্যাক্তা ভুক্তভোগি ঐ নারী জানান, ১০ বছর আগে একটা রং নাম্বারে তৎকালীন রাজশাহী বন বিভাগীয় কার্যালয়ে সহকারী বনসংরক্ষক পদে কর্মরত সালেহ মো: শোয়েব খানের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে বিভিন্নভাবে তিনি ভুক্তভোগি ঐ নারীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছেন বলে দাবি তার। এর মধ্যে ঐ নারীর সাথে টাঙ্গাইলে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন ঐ বন কর্মকর্তা। তার আগে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে সালেহ মো: শোয়েব খানকে বিয়ে করতে বার বার চাপ প্রয়োগ করেন ঐ বনকর্মকর্তা। সৌদি প্রবাসী ভুক্তভোগি ঐ নারীর স্বামী বিদেশে অবস্থানকালেই তাকে অনেকটা জোর পূর্বক ডিভোর্স দিতে বাধ্য করেন ঐ বন কর্মকর্তা। ডিভোর্সেও সকল কাগজপত্রও তৈরী করে দেন সালেহ মো: শোয়েব খান। ডিভোর্সের পর সালেহ মো: শোয়েব খান ঐ নারীকে বিয়ে করেন। বিয়েতেও রয়েছে রহস্য। ঐ নারীর দাবি সালেহ মো: শোয়েব খান কিছু কাগজপত্র নিয়ে এসে আমাকে দিয়ে সাক্ষর করিয়ে বলেছিলেন আজ থেকে আমরা স্বামী-স্ত্রী। আমিও তার কথা অন্ধের মত বিশ্বাস করেছি। কখনও বিয়ের কাগজপত্রও তার কাছে দেখতে চাইনি। বিয়ের পর সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেছেন। রাজশাহী থেকে কক্সবাজার বদলী হওয়ার সময়ও তারা একই বাসায় বসবাস করতেন বলে দাবি ঐ নারীর। কক্সবাজার থেকে সুন্দরবনের নলিয়ায় আসার সময়ও খুলনায় বাসা ভাড়া নিয়ে থেকেছেন। বিয়ের ৪ বছর পর একটি মেয়ে সন্তান হয়। মেয়েটার বয়স এখন ৫ বছর। কুষ্টিয়ায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর থেকে সে আমার সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি বাধ্য হয়ে কুষ্টিয়ায় এসে তার সাথে দেখা করে বার বার বোঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তু সে আমাকে এখান থেকে চলে যেতে বলে এবং আমাকে টাকা পয়সা দিয়ে তার জীবন থেকে চলে যাওয়ার হুমকী দেয়। তার অফিসের লোকজনকে দিয়ে আমাকে কুকুরের মত লাঠি দিয়ে মারপিট করে। এতো নির্যাতনের পরেও আমি চেষ্টা করি যাতে আমার সংসারটি টিকে। আমি থানা পুলিশের কাছে যেতে চাইনি। আমি আমার সংসার ফেরত চেয়েছি আর সে আমাকে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে হুমকী ধামকী দিয়ে কুষ্টিয়া থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে। ঐ নারীর দাবি আমার মেয়ের বাবা সালেহ মো: শোয়েব খান। আমার মেয়ের আর তার ডিএনএ পরীক্ষা করলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যেত। কিন্তু তার টাকার কাছে আমি হেরে যাচ্ছি। সে টাকা পয়সা দিয়ে থানা পুলিশ গুন্ডা ভাড়া করে আমাকে কুষ্টিয়া থেকে চলে যেতে বাধ্য করছে। ঐ নারীর দাবি থানায় ডেকে মুছলেকা লেখা সাদা কাগজে আমার সাক্ষর নিয়েছে থানা পুলিশ। আমাকে টাঙ্গাইল ফিরে যেতে এক হাজার টাকাও দিয়েছে। আমি কোথায় ন্যায় বিচার পাচ্ছিনা দাবি করে ঐ নারী জানান, আমার মেয়ের বাবা সালেহ মো: শোয়েব খান। আমার মেয়ের পিতৃপরিচয়ের জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। কুষ্টিয়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের দাবি, ঐ নারীর সাথে তার পরিচয় অল্প কিছুদিন আগে। বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি কখনই তাকে বিয়ে করিনি। বিয়ের কোন কাগজপত্র সে দেখাতে পারবে না। অথৈয় নামে ৫ বছর বয়সী যে মেয়ে আছে সেই মেয়ে কার জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। নাম না প্রকাশের শর্তে কুষ্টিয়া বনবিভাগে কর্মরত একজন জানান, কুষ্টিয়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের সাথে ঐ নারীর এর আগেও ঝামেলা হয়েছে। তিনি কুষ্টিয়ায় বদলী হয়ে আসার পর ঐ নারী কাস্টম মোড়ে তার বাংলোতে উঠেছিলেন। সেবার তাকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠান সালেহ মো: শোয়েব খান। তিনি দাবি করেন ঐ নারীকে কুষ্টিয়া থেকে সরাতে সালেহ মো: শোয়েব খান প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বিভিন্ন জনকে দিয়ে ম্যানেজ করেছেন। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নূরানী ফেরদৌস দিশা জানান, কুষ্টিয়ার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের সাথে ঐ নারীকে থানায় নিয়ে জিঙ্গাসাবাদ করা হয়েছে। বন কর্মকর্তা ঐ নারীকে চিনেন বলে জানিয়েছেন। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সালেহ মো: শোয়েব খানের সাথে যে ঐ নারীর বিয়ে হয়েছে সে ব্যাপারেও কোন কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। তবে তিনি বলেছেন তাদের ৫ বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা ঐ নারীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিয়েছি।


     এই বিভাগের আরো খবর