,

দুর্ভোগের বিরুদ্ধে সরব হতে হবে

রাজধানী ঢাকাকে যানজট মুক্ত করিতে বাস্তবায়ন করা হইতেছে ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (মেট্রোরেল)। প্রকল্পসূত্রে জানা গিয়াছিল যে, প্রজেক্ট বাস্তবায়নে জনদুর্ভোগ কমাইতে রাস্তার দুইদিকে দুইটি করিয়া চারটি লেন খোলা রাখা হইবে। মাঝে মিডিয়ান ঘিরিয়া কাজ চলিবে। খননের সময় যেইসব মাটি উঠিবে, সেইগুলি বক্সে তুলিয়া একটি ডাম্পিং সাইটে ফেলা হইবে। দুর্ঘটনা এড়াইতে ও নির্বিঘ্নে কাজ সম্পাদন করিতে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় ‘হার্ড ব্যারিয়ার’ ব্যবহার করিবার নিয়ম রহিয়াছে।
কিন্তু এই বর্ষায় চিত্রটি বহুলাংশে পাল্টাইয়া গিয়াছে। বিশেষ করিয়া মিরপুর এলাকায়। মেট্রো রেল প্রকল্পের কারণে আগারগাঁও হইতে মিরপুর অবধি রোকেয়া সরণি অনেকটা সংকুচিত হইয়া পড়িয়াছে। আর যেইটুকু সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য রাখা হইয়াছে, তাহার বেশিরভাগই খানাখন্দে ভরা। ফলে এই বর্ষায় চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তিতে পড়িতে হইতেছে মিরপুরের বাসিন্দাদের। দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টার সময় মিরপুর ১০ নম্বর গোল চক্কর হইতে আগারগাঁও পর্যন্ত সারি সারি গাড়ি দাঁড়াইয়া থাকা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হইয়াছে। বৃষ্টি একটুখানি বেশি হইলেই মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু হইতে কোমর-সমান পানি জমিয়া যায়। কখনো-সখনো পানির উচ্চতা এতটাই বেশি থাকে যে, উহার মধ্য দিয়া হাঁটিয়া যাইবারও উপায় থাকে না। কিন্তু মানুষকে তো তাহার গন্তব্যে পৌঁছাইতে হইবে। সেই কারণে সাধারণ মানুষকে বাধ্য হইয়াই চলাচল করিতে হয় এবং পড়িতে হয় চরম দুর্ভোগের মুখে।
আধুনিক উন্নয়ন প্রযুক্তি এখন এতটাই বিস্ময়কর সেবা প্রদান করিবার সামর্থ্য রাখে যে, উন্নত বিশ্বে দেখা যায় উন্নয়ন কাজ চলিবার সময় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সাধারণ নাগরিকেরা অনেক সময়ই বুঝিতেও পারেন না যে, আড়ালে কতবড় উন্নয়ন কাজ চলিতেছে। এমনকী ব্রিটিশ আমলেও যখন উন্নয়ন কাজ চলিত, যখন আধুনিক সুবিধা এত ব্যাপক ছিল না— তখনও অন্তত হারিকেনের মাথায় লালপট্টি বাঁধিয়া সাধারণ মানুষকে সতর্কতা সংকেত দেওয়া হইত। সুতরাং প্রকল্প অনেক আছে, আরও অনেক আসিবে— কিন্তু দুর্ভোগের বিষয়টি লইয়া সরব হইতে হইবে ভুক্তভোগীদের। নচেত্ দুর্ভোগের সংস্কৃতি হইতে মুক্তি মিলিবে না সহজে।


     এই বিভাগের আরো খবর