,

ইউনিভার্সিটিগুলো আবাসিক হলে খাবারের মান

ক্যান্টিন বা ডাইনিংয়ের খাবার এতোটাই নিম্নমানের ও স্বাদহীন যে, তাহা শিক্ষার্থীদের অপুষ্টিরও একটি বড় কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। গত মঙ্গলবার ক্যান্টিনের খাবার খাইয়া হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) জিয়া হলের ৪০জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হইয়া পড়েন। তাহাদের মধ্যে ১৮ জনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিতে হয়। চিকিত্সকরা জানাইয়াছেন, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ফুড পয়জনিংয়ে আক্রান্ত। তাহাদের পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি ও জ্বর হইয়াছে। এই হলের ছাত্ররা ইতিপূর্বেও ক্যান্টিনের খাবার খাইয়া অসুস্থ হইয়া পড়িয়াছিলেন।দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলির খাবারের মান লইয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্ত নাই।

ইতিপূর্বে ইত্তেফাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিংয়ের খাবারের মান লইয়া বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হইয়াছে। এইসব হলের ক্যান্টিন ও ডাইনিংগুলি ঘুরিয়া দেখা গিয়াছে, রান্নার জন্য ক্রয়কৃত সবজি, মাছ ও মাংসের গুণগত মান খুবই খারাপ। কাটাকাটি হইতে শুরু করিয়া ধোয়া ও রান্না পুরা প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে করা হয়। রান্নায় ব্যবহূত তেলও হয় অত্যন্ত নিম্নমানের। পরিবেশনের প্রক্রিয়া লইয়াও বিস্তর অভিযোগ রহিয়াছে প্রায় সকল হলের শিক্ষার্থীদের। খাবারে মরা তেলাপোকা হইতে শুরু করিয়া মশা-মাছি পাওয়া অতি সাধারণ ব্যাপার।

শিক্ষার্থীদের সঠিক পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আবাসিক হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের খাবারের মানোন্নয়নে হল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করিতে হইবে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও যথাযথ তদারকি বা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়িয়া তুলিতে হইবে, যাহাতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করিয়া কেহ পার না পায়। বিভিন্ন হলে অস্বাস্থ্যকর ও অপুষ্টিকর খাবারের এই বিদ্যমান সমস্যা হেলাফেলা করিবার মতো বিষয় নহে। স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার পরিবেশন নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে যেমন যত্নশীল হইতে হইবে, তেমনি শিক্ষার্থীদেরও সক্রিয় ও সচেতন ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্যই বলা চলে।


     এই বিভাগের আরো খবর