,

কোরবানির বর্জ্য অপসারণ ও সংরক্ষণ

 

এক সময় খোদ কুষ্টিয়াতে কোরবানির বর্জ্য এমনকি আট-দশদিন ধরিয়া পড়িয়া থাকিত। ইহাতে পরিবেশ দূষণে নগরবাসীর বসবাস করা কঠিন হইয়া পড়িত। এখন সেই পরিস্থিতি নাই বলিলেই চলে। গতবার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা হয়। চালু হয় হটলাইন। এইবারও তাহার ব্যত্যয় ঘটিবে না বলিয়া আশা করা হইতেছে। এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হইল—পরিবেশসম্মতভাবে পশু জবাই নিশ্চিত করিতে নির্দিষ্ট জায়গায় পশু কোরবানি দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। এইজন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবার ১১টি সিটি করপোরেশনে দুই হাজার ৯৩৬টি স্থান নির্ধারণ করিয়াছে। এই নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করিলে বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া দ্রুততর ও সহজ হইবে।

 

ইতোমধ্যে দেশের সকল , পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানি করিবার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। উন্মুক্ত স্থান বা সড়কে পশু জবাই না করার নির্দেশও দেওয়া হইয়াছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাটা চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। মক্কা-মদীনায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সামিয়ানা টাঙাইয়া পশু কোরবানি করিতে দেখা যায়। আমাদের দেশে এমন ব্যবস্থাপনা নূতন বলিয়া তাহা চালু হইতে সময় লাগিবে। তবে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অধিকতর উন্নতি সাধনে ইহার কোনো বিকল্প নাই। এই উদ্যোগকে সফল করিতে হইবে। যাহারা নিজ বাড়িতে পশু কোরবানি করিবেন, তাহাদের নিজ দায়িত্বেই আবর্জনা পরিষ্কার করিতে হইবে। এই ব্যাপারে সরকার ব্লিচিং পাউডার ও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করিয়া সহায়তা করিতেছে। জানা মতে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতি বত্সর সারা দেশে কম-বেশি ১ কোটি ২০ লক্ষ পশু জবাই করা হয়। জবাইকৃত এই সকল পশুর বর্জ্য তথা রক্ত, নাড়িভুড়ি, গোবর, হাড়, খুর, শিং ইত্যাদির সঠিক ব্যবস্থাপনা একান্ত দরকার। এইগুলি যেখানে সেখানে ফেলা যাইবে না। যেইগুলি অপ্রয়োজনীয় তাহা মাটিতে পুঁতিয়া ফেলিতে হইবে বা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে রাখিতে হইবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে করা হইলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধের পাশাপাশি জবাইকৃত পশুর উচ্ছিষ্টসমূহকে সম্পদেও রূপান্তর করা সম্ভব। কোরবানির পশুর হাড়গোড়, খুর, শিং, লেজ, ভুড়ি, চর্বি প্রভৃতি—এমনকি রক্তও অনেক মূল্যবান। হাড়, খুর ও দাঁত দিয়া তৈরি হয় ক্যাপসুলের কভার, জেলোটিন, ক্যামেরার ফিল্ম, সিরিজ কাগজ, বোতাম, সিরামিক পণ্য, মেলামাইন, চিরুনি, পুতি ইত্যাদি। পিত্তথলি দিয়া তৈরি হয় উন্নতমানের দামি ঔষধ। বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির গবেষণা মতে, কোরবানির ঈদে শুধু ঢাকা শহরেই উত্পন্ন হয় ৩৫ হাজার টন বর্জ্য। এইসব বর্জ্যের মূল্যবান অংশ সংগ্রহ করিয়া বিদেশে রফতানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এদিকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বলিতেছে, কোরবানির বর্জ্য দিয়া তৈরি করা যায় উত্কৃষ্টমানের জৈব সার। অতএব, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এইসকল সম্ভাবনাকেও কাজে লাগাইতে হইবে। বর্জ্য অপসারণ ও প্রয়োজনীয় অংশ সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য।


     এই বিভাগের আরো খবর