,

ভেনিজুয়েলা সংকটের নেপথ্যে

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনিজুয়েলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম সংকটে নিপতিত হইয়াছে। একদিকে, অকল্পনীয় মুদ্রাস্ফীতি, প্রধান পরাশক্তি আরোপিত বিধিনিষেধ, খাদ্যঘাটতি, ঋণশোধে ব্যর্থতা, অপরাধ ও দারিদ্র্যের ব্যাপক বৃদ্ধিতে দেশটি টালমাটাল হইয়া পড়িয়াছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীনদের সহিত বিরোধীদের মতভেদের পরিণতিতে ভেনিজুয়েলার রাজনীতিও বিভেদের বেড়াজালে আটকাইয়া পড়িতেছে। অবস্থা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাইয়াছে যে, গত কয়েকদিন ধরিয়া হাজার-হাজার মানুষ আশপাশের দেশগুলিতে ঢুকিয়া শরণার্থীর জীবন বাছিয়া লইতে শুরু করিয়াছে। পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্ তৈলের মজুত, হীরকসহ নানাবিধ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ ভেনিজুয়েলার এই পরিস্থিতিকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?

 

প্রশ্ন হইতেছে, ভেনিজুয়েলার অপরাধ কী? শ্যাভেজ ভেনিজুয়েলার তৈলসম্পদকে বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির যথেচ্ছাচার হইতে রক্ষা করিতে সুদৃঢ় অবস্থান লইয়াছিলেন। এই সমস্ত বহুজাতিক সংস্থার সহিত নানাবিধ বন্ধনে আবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধেও তিনি শক্ত অবস্থানে ছিলেন। এই কারণে তাঁহাকে বিরোধীদল নিপীড়ক, বিশ্বায়নবিরোধীসহ নানা তকমা লাগানো হয় পশ্চিমা মিডিয়াতে। প্রাকৃতিক সম্পদ হইতে প্রথমবারের মতো আগত অর্থ শ্যাভেজ সাধারণের সামাজিক সুরক্ষার কাজে লাগাইয়াছিলেন। তিনি গোটা দক্ষিণ আমেরিকাকেই ঋণের জাল হইতে মুক্ত করিবার উদ্যোগ লইয়াছিলেন। ঘরে-বাহিরে এই সকল প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও বিপুল ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানাপক্ষের সমর্থনের বরাতে টিকিয়া গিয়াছিলেন শ্যাভেজ। কিন্তু মাদুরো যে শ্যাভেজ নহেন তাহা সকলেই জানেন।

ভেনিজুয়েলার প্রয়াত নেতা হুগো শ্যাভেজ কেবল নিজ-দেশ নহে, বরং গোটা দক্ষিণ আমেরিকাকেই প্রধান পরাশক্তি ও ইহার সহযোগীদের কবল হইতে মুক্ত করিবার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা করিয়াছিলেন। ১৯৯৯ হইতে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক জোটসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাইয়াছিলেন। ইহার বিনিময়ে তিনি প্রধান পরাশক্তির শত্রুতাও খরিদ করিয়াছিলেন।

প্রধান পরাশক্তি ও বিরোধী দলগুলি তাহাকে প্রথম দিন হইতে উত্ত্যক্ত করিবার নীতি গ্রহণ করে। একই সঙ্গে ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহার হইতে থাকে নানাবিধ অবরোধ-অস্ত্র। মাদুরো প্রবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ ব্যবহারে পূর্বসূরির কাছাকাছিও সফল হন নাই। বরং তিনি কখনো-কখনো দমন-নিপীড়নের আশ্রয় লইয়াছেন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হইতেছে, ভেনিজুয়েলার বিচার বিভাগ। সামপ্রতিক সময়ে দেশটিতে বিচার বিভাগ একাধিকবার আইন বিভাগ ও রাজনীতির উপরে সুস্পষ্টভাবে আগ বাড়াইয়া চড়াও হইয়াছে কিসের অনুপ্রেরণায় কাহাদের স্বার্থে তাহা কে বলিবে?


     এই বিভাগের আরো খবর