,

খাবারের অপচয় রোধে করণীয়

সারা বিশ্বে প্রতি বছর খাদ্যদ্রব্যের এক তৃতীয়াংশ আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হয়৷ এর ফলে যে শুধু পরিবেশ দূষিত হয় তাই নয়, মানিব্যাগও অনেকটা হালকা হয়৷ তবে অপচয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রয়োজন অনেক শক্তি ও শৃঙ্খলা৷

 

খাবার নষ্ট করা কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও অনেক সময় ইচ্ছা না থাকলেও খাবার নষ্ট হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু খাবার নষ্টে মানসিকতাও অনেকটা দায়ী। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোয় বুফে খেতে গিয়ে অনেকটা খাবার নষ্ট হয়। কোনো অনুষ্ঠানে প্রয়োজনের বেশি রান্না করা হয়, সেগুলোর অনেকটাই ডাস্টবিনে চলে যায়।

 

খাবার অপচয় করা ক্ষুধার্ত এবং গরিবের টেবিল থেকে কেড়ে নেয়ার সমান। কোনো এক সময় প্লেটের খাবার শেষ করে খেতে না পারা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু অনেকে আছেন যাদের খাবার অপচয় করা অভ্যাসে পরিণত হওয়াটা একটা গুরুতর সমস্যা। বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ৩.৭ ট্রিলিয়ন আপেল নষ্ট হয়। এই বিষয়টা যদি আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হয় তাহলে খাদ্যের অপচয় রোধে মনযোগী হওয়াটা কতোটা জরুরী এটা বোঝার বিষয়।

 

প্রতিদিনই আপনার রান্না ঘরের ময়লার ঝুড়িতে কি পরিমান খাবার ফেলে দিচ্ছেন? কখনো খেয়াল করে দেখেছেন কি? হিসেব করেছেন কি?

 

আমরা প্রতিদিন যত খাবার কিনি বা তৈরি করি তার প্রায় ১৪% খাবারই অপচয় হয়। শুধু তাই নয় পঁচে যাওয়া খাবার থেকে যে পরিমান গ্রীন হাউস গ্যাস (মিথেন) নির্গত হয়, তা কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে প্রায় ২৫ গুন বেশি ক্ষতিকারক।

 

তবে আপনি একটু সচেতন হলেই খাবার অপচয় রোধ করতে পারেন। তার জন্য দরকার পরিমিত কেনাকাটা আর যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু গ্রহণ।

 

 

 

ময়লার ঝুড়ির প্রতি লক্ষ্য রাখুন

 

আপনি যদি সত্যি সত্যি খাবার অপচয়ের ব্যাপারে সিরিয়াস হন, তাহলে পুরো সপ্তাহ জুড়ে প্রতিদিন আপনার ময়লার ঝুড়ির প্রতি লক্ষ্য রাখুন। দেখুন কী কী আইটেম, কী পরিমান নষ্ট হচ্ছে। প্রয়োজনে নোটবুকে টুকে রাখুন।

 

এরপর অভ্যাস বদলের পালা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনা বাদ দিন। বেশি বা উদবৃত্ত থেকে গেলে সেগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করুন ফ্রিজে কিংবা এয়ারটাইট কোন কনটেইনারে। ঘরে বসে খাবার তৈরী করার সময় খেয়াল রাখুন কতজনের জন্য কতটুকু প্রয়োজন হতে পারে।

 

বাজারে যাওয়ার আগে ফ্রিজ চেক করা

 

প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য মুদিখানায় যাচ্ছেন। তার আগে ফ্রিজ খুলে দেখে নিতে পারেন। এতে করে বাড়িতে থাকার পরও কোনো জিনিস কেনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব।

 

ফ্রিজে আইটেম অনুযায়ী খাবার সাজিয়ে রাখুন

 

ফ্রিজে যখন খাবার রাখবেন, তখন আইটেম অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন। এতে কোন খাবার চোখের আড়ালে থাকবে না। খাওয়ার অযোগ্য হওয়ার আগেই সেটার সদব্যবহার করতে পারবেন। প্রতি সপ্তাহে ফ্রিজ পরিস্কার করার সময় কোন খাবারের অবশিষ্টাংশ বা অব্যবহৃত অংশ আলাদা করে রাখুন। নতুন করে কোন স্বচ্ছ কনটেইনারে রেখে পরিস্কারের পর ফ্রিজের সামনের দিকে রাখুন। যাতে সহজেই আপনার নজরে পড়ে।

 

প্লেটে একবারে বেশি না নিয়ে অল্প করে নিন

 

বাড়িতে খাওয়ার টেবিলে প্লেটে খাবার তুলে নেয়ার সময় ভাবুন যে আপনি সবটা শেষ করতে পারবেন কি না। প্রয়োজনে বার বার তুলে নিন। এতে করে যেমন আপনার খাবার নষ্ট হবার সম্ভাবনা কমে যাবে তেমনি একটু একটু করে হলেও বাঁচাতে পারবেন বাজার খরচের একটা অংশ।

 

খাবার তৈরিতে নমনীয় হউন

 

সবজি রান্না করবেন? স্যুপ বা শরবত বানাবেন? কিন্তু সবজির কিছু অংশ তো পঁচে গেছে। কলাটা একটু বেশি পেকে গেছে। গাঁজরটা কেমন শুকিয়ে গেছে। পনিরের কোনায় একটু পচন ধরেছে। একটু নমনীয় হউন। পঁচা বা শুকিয়ে যাওয়া অংশটুকু ফেলে বাকিটুকু কাজে লাগান।

 

ফ্রিজের সেটিংস চেক করুন

 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশিরভাগ পরিবারেই ফ্রিজের তাপমাত্রা একটু বেশি সেট করা থাকে। ফলে খাবার নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি। তারা বলেন ফ্রিজের তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি ফারানহাইট বা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখলে খাবার অনেকদিন পর্যন্ত টাটকা থাকে।

 

 

অবশিষ্টাংশ ফ্রিজে রাখুন

 

ক্রয়কৃত খাবার, সবজি, ফল কিংবা তৈরিকৃত খাবার ব্যবহার বা গ্রহনের পর; উদবৃত্ত অংশ ফ্রিজারে রাখুন। সস বা পেস্ট জাতীয় হলে ডীপ অংশে রাখুন আর বাকীগুলো নরমাল অংশে রাখুন। ফ্রিজের মত ফ্রিজারের তাপমাত্রার সেটিংসটাও দেখে নিন। খেয়াল রাখুন জিরোতে আছে কি না।

 

মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ খেয়াল রাখা

 

কেনার সময় মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেখে নিতে হবে। এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন খাদ্যসামগ্রী খেয়ে ফেলা যায় সে অনুযায়ী খাদ্য কিনতে হবে।

 

অতিরিক্ত কোনোকিছু পরিকল্পনা না করা

 

খাবার আয়োজনের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যতা থাকা ভালো। কিন্তু সেটা যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

কোনো খাবার ফেলে দেয়ার আগে একটু চিন্তা করার চেষ্টা করবেন যে, সেটা উত্পাদনে কতটা পরিশ্রম এবং সম্পদ ব্যয় হয়েছে। দুই সপ্তাহ অন্তর একবার খাতা-কলম নিয়ে হিসাব করে দেখুন, এ সময়কালে কতটা খাবার নষ্ট হয়েছে এবং এতে আপনার কত টাকা অনর্থক খরচ হলো।

 

টাকার হিসাব চোখের সামনে থাকলে খাবারের অপচয় রোধে আপনি সচেতন হবেন। খাবার একটু পুরনো হলেই যে ফেলে দিতে হবে, সে রকম কোনো নিয়ম নেই। খাবার পচে গেলে বা জীবাণু-ছত্রাকের আক্রমণের লক্ষণ দেখা না গেলে শুধু সন্দেহের বসে খাবার ফেলে দেয়া উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব খেয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।


     এই বিভাগের আরো খবর