,

তলাবিহীন ঝুড়ি হইতে মূল্যবান ব্র্যান্ড ভ্যালু

বাংলাদেশ যখন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভ করে, তখন সেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির ব্র্যান্ড ভ্যালু লইয়া কাহারো কোনো মাথাব্যথা ছিল না। কেহ কেহ তো এই দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ উপাধিও দিয়াছিল ব্যঙ্গ করিয়া। বিপুল জনসংখ্যা আর ক্ষুদ্র আয়তনের এই দেশটি বহির্বিশ্বের মানুষের নিকট বন্যা, সাইক্লোন, হরতাল-অবরোধের দেশ হিসাবেই বেশিরভাগ সময় পরিচিতি পায়। তবে বিস্ময়কর ব্যাপার হইল, বিভিন্ন সংকট কাটাইয়া বাংলাদেশ ক্রমশ সামনের দিকে ধাবমান হইতেছে  দ্রুত। আর ইহারই সর্বশেষ স্বীকৃতি মিলিয়াছে ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড ফিন্যান্সের চলতি প্রতিবেদনে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকে পিছনে ফেলিয়া ব্র্যান্ড ভ্যালুতে বিশ্বের ১০০ দেশের মধ্যে ৩৯তম স্থান দখল করিয়াছে বাংলাদেশ।

 

ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ১৯৯৬ সাল হইতে এমন তালিকা প্রকাশ করিতেছে। ব্র্যান্ড ভ্যালু হিসাব করিতে প্রতিষ্ঠানটি একটি দেশের সামাজিক ব্যবস্থার আওতায় পণ্যসেবা, বিনিয়োগ, পর্যটন, বাজার সম্ভাবনা, শাসনব্যবস্থা, জনবল ও দক্ষতার বিষয়গুলি বিবেচনায় লইয়া থাকে। লন্ডনে সর্বশেষ প্রকাশিত ন্যাশনস ব্র্যান্ড রিপোর্টে বর্তমানে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু ২৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বত্সর ও ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ২০৮ ও ১৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে গত এক বত্সরে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়িয়াছে ২৪ শতাংশ। আর রেটিংয়ের দিক থেকে -এ হইতে +এ হইয়াছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ অন্যসকল সূচকে যেই ইতিবাচক ঝড় উঠিয়াছে তাহারই ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত হইয়াছে ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে। যথার্থ অর্থে বাংলাদেশের এই উন্নয়নের শুরু হইয়াছে স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের মধ্যদিয়া। ইহা অব্যাহতভাবে একটি ধারাবাহিক কর্মপ্রচেষ্টার চিত্র। তবে গত ১০ বত্সরে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি যে মাত্রা অর্জন করিয়াছে, তাহা বিস্ময়কর নিঃসন্দেহে। কৃষি, যোগাযোগ, দুর্যোগ, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, পানি প্রভৃতি সেক্টরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নয়নের স্বাক্ষর রাখিয়াছে এবং রাখিয়া যাইতেছে। ইতিপূর্বে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হইতে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটিয়াছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত, অবকাঠামোবিহীন একটি সদ্যস্বাধীন দেশ মাত্র ৪৭ বত্সরের মধ্যে প্রায় সর্বক্ষেত্রে যে বিপুল উন্নয়নের ছাপ রাখিয়া চলিতেছে, তাহাতে আমাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু আগামীতে যে বিশেষ উচ্চতায় আসীন হইবে—তাহা অতিরঞ্জিত কোনো স্বপ্ন নহে। তবে ইহার জন্য প্রয়োজন সুস্থিতিশীল সমাজ। আমরা আশা করিব, বৃহত্তর স্বার্থে দেশের স্থিতিশীলতা লইয়া  কেহ কোনো ছিনিমিনি খেলিবে না।


     এই বিভাগের আরো খবর