,

তফসিল ঘোষণা না করার আহ্বান রিজভীর

দেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর যে সংলাপ চলছে তাতে সঙ্কটের সুরাহা না হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তোড়জোড় করছে নির্বাচন কমিশন। যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মতামতকেও অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।

রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তফসিল পেছানোর আবেদন করা হলেও ইসি সচিব তা অস্বীকার করে বলেছেন তারা কোনো চিঠি পাননি। এ সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আইনসঙ্গত ক্ষমতাবলে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকুন।

‘একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে আন্দোলন, এটি আমার বোধগম্য নয়’-প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এখনও তো সেই অর্থে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়নি, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সংলাপের মাধ্যমে সঙ্কট নিরসন করতে পারলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের পথে যাবে না।

তিনি বলেন, সঙ্কট নিরসনের চাবিকাঠি আপনার (প্রধানমন্ত্রী) হাতে। আলোচনার আহ্বান তো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অব্যাহত আছে। তবে আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’ শুনতে হবে। এই ধ্বনি হচ্ছে বর্তমানে জনগণের দাবি-যা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ দফা দাবির মাধ্যমে উত্থাপন করেছে। আপনি সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে কোনো সঙ্কট থাকার কথা নয়। সংলাপ ফলপ্রসূ করুন, তখন বিরোধী দল আন্দোলনের পথে হাঁটবে না।

রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার বাছাই করছে পুলিশ। বিভিন্ন থানা নির্বাচন অফিস নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিশ সেই তালিকা ধরে ধরে কারা সরকার দলীয় সমর্থক তাদের নাম বাছাই করছে। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গিয়ে যাচাই করছে, ফোন করে জিজ্ঞাসা করছে আপনি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য। যদি কোনো শিক্ষক বিএনপি সমর্থক হয়ে থাকে তাকে বলা হচ্ছে আপনার নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের দরকার নেই।

তিনি বলেন, জনগণ এমন কর্মকাণ্ডকে ভোট কারচুপির পূর্ব প্রস্তুতি বলেই মনে করছে। সরকারের হুকুমেই এমন নজিরবিহীন কর্মকাণ্ড চলছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার পর এখন গণগ্রেফতারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


     এই বিভাগের আরো খবর