,

কুষ্টিয়ায় টেগর লজ রক্ষায় সাংবাদিক সম্মেলন

ইরফান রানা-  কুষ্টিয়া পৌরসভার তত্বাবধায়নে কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী খ্যাত ‘টেগর লজ’ কুষ্টিয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রেমি’ রবীন্দ্র-ভক্ত এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে রবীন্দ্রচর্চা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।এখানে সাংস্কৃতিক কর্মী ও সেবীদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। অথচ সম্প্রতি প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর এই টেগর লজটিকে অধিগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু কুষ্টিয়াবাসী এটি দিতে চাই না। কারন এটি তারা অধিগ্রহণ করলে সকাল ১০-৫টার পর বন্ধ করে দেবে। আর এসব সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা এখানে কোন অনুষ্ঠান করতে পারবে না। তাই এই টেগর লজ রক্ষায় সাংবাদিক সম্মেলন করেছে টেগর লজ (কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী) রক্ষা কমিটি।

রোববার সকালে টেগর লজে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন টেগর লজ (কুষ্টিয়া কুঠিবাড়ী) রক্ষা কমিটির সদস্য-সচিব সৈয়দা হাবিবা।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, যখন এই ‘টেগর লজ’ দীর্ঘদিন ব্যক্তিমালিকানায় ছিল তখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। একদা জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ্র সহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দ এবং কৃষ্টিয়ার তৎকালীন জননন্দিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার আলী সম্মিলিতভাবে দাবী তোলেন যেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ব্যক্তিমালিকানা থেকে ভগ্নপ্রায় ‘টেগর লজ’ অধিগ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, তখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ শীতনিদ্রারত ছিল। পরবর্তীকালে মেয়র আনোয়ার আলী ‘টেগর লজ’টি ব্যক্তি মালিকানা থেকে উদ্ধার করে তা যথাযথভাবে সংস্কার করেছেন এবং রবীন্দ্র্রচর্চা তথা বাঙালি সংস্কৃতির চর্চার জন্য সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছে উন্মুক্ত করে দেন। উল্লেখ্য যে, পৌরসভা যথাযথভাবে এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

শুধূ তাই নয়, এখানে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী, রবীন্দ্র প্রয়াণ দিবস, প্রতি পূর্ণিমা তিথীতে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক আলোচনা ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের আসর সহ সারা বছর জুড়ে কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডা, কবিতা পাঠের আসর, আবৃত্তি অনুষ্ঠান, আবৃত্তি প্রশিক্ষণ কর্মশালা, পশ্চিম বাংলা সহ ঢাকা থেকে আগত সঙ্গীত-শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান নিয়মিত হয়ে আসছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানা যায় সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ‘টেগর লজ’কে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অধিগ্রহন করবে। এই খবরে নিঃসন্দেহে কুষ্টিয়ার সকল রবীন্দ্রপ্রেমী এবং সাংস্কৃতিক কর্মীর যাঁরা নিয়মিত ‘টেগরলজ’ এ সারা বছর ধরে অনুষ্ঠান করে থাকেন তাঁরা মর্মাহত হয়েছেন। কারণ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ‘টেগর লজ’টি অধিগ্রহন করলে তা দিনের ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা হবে। তারপর এটি তালাবদ্ধ করে রাখা হবে। তখন এ বাড়িটি সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। তাই আমরা এই টেগর লজকে রক্ষা করতে আমরা সকল সাংস্কৃতি সংগঠনরা একত্রিত হয়ে এটির প্রতিহত করার চেষ্টা করছি। এজন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভার মেয়র, এবং প্রত্নতত্ব অধিদপ্তর, সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়সহ যেখানে যাওয়া লাগে সেখানেই যাবো। এমনকি মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবো। তবুও এই টেগর লজকে আমরা রক্ষা করবো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অশোক সাহা, টেগরলজ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি আলম আরা জুঁই, রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সহ- সভাপতি খলিলুর রহমান মজু, সুন্দরম ললিতকলা একাডেমির সভাপতি কবি কনক চৌধুরী, উদিচি শিল্লী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি গোপা সরকার, লালন সঙ্গীত চর্চা ও গবেষনা কেন্দ্রের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম ডালিম, নবরুপে জাগো সাহিত্য আসরের সহ সভাপতি মহিত চন্দ গবিন্দ প্রমুখ। উল্লেখ্য কুষ্টিয়া জেলার ২৫ টি সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্রিত হয়েছে এই আন্দোলনে।


     এই বিভাগের আরো খবর