,

সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দৃশ্যমান

ঐক্যফ্রন্টের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের আন্তরিকতায় পহেলা নভেম্বর হয়ে গেলো সংলাপ। সংলাপের আগেই প্রধানমন্ত্রী সকলের কাছে আমন্ত্রণের চিঠি পাঠান এবং সকলের পছন্দ অনুযায়ী খাবারের আয়োজনও করে রাখেন ।

সংলাপে অংশ নিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে পৌঁছান সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সদস্য বিশিষ্ট ১৪ দলীয় জোটের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ২০ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

সংলাপের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আপনারা এসেছেন গণভবন ও জনগণের ভবনে। এখানে আপনাদের আমি স্বাগত জানাই। এই দেশটা আমাদের সকলের। সবাই মিলেমিশে দেশকে এগিয়ে নেবো। মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। দেশের সার্বিক উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য”।  জানা যায়, সংলাপে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা যে যা বলতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও বক্তব্য রেখেছেন। আলোচনায় সুন্দর পরিবেশ ছিল।

ড. কামালসহ অন্যন্য নেতারা অনেক বিষয়েই একমত হয়েছেন। ড. কামাল হোসেন আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনি আলোচনায় সন্তুষ্ট। এখানে এসে তিনি এমন অনেক কিছু জানতে পেরেছেন, যা আগে তিনি জানতেন না।

অপরদিকে, ঐক্যের আরেক শরীক বিএনপির প্রতিনিধি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংলাপ শেষে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন তখন সরকার পক্ষের প্রতিনিধিগণ বলেন এটি সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়”। সংলাপে অংশ নেওয়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি নিশ্চুপ ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সংলাপ শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। সংলাপ শেষে রাত অনুমানিক ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে একে একে নেতারা বেরিয়ে আসেন। তবে সংলাপ শেষে এতটুকু খুব সাধারণভাবেই  স্পষ্ট যে, ঐক্য শুধু নামেই তাদের এজেন্ডা কিন্তু লক্ষ্য এক নয়।


     এই বিভাগের আরো খবর