,

মেক্সিকো সীমান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রেরণ প্রসঙ্গে

হাজারো মাইল দূরে থাকা একদল নিরস্ত্র মানুষকে ঠেকাইতে ব্যাপক মাত্রায় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করিবার মধ্য দিয়া বিদেশি-অভিবাসী বিদ্বেষের আরেক দফা প্রমাণ রাখিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্লেখ্য, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যবর্তী মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ হইতে প্রায় হাজার সাতেক লোকের একটি বহর যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হইতেছে মর্মে খবর আসিবার পর হইতেই ফুঁসিয়া উঠিয়াছেন ট্রাম্প। মূলত দারিদ্র্য ও সহিংসা নিপীড়িত দেশ হন্ডুরাস, গুয়াতেমালা ও এল সালভাদর হইতে অভিবাসন-উন্মুখ জনতার এই কাফেলাটি মেক্সিকো সীমান্ত হইয়া যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকিবার লক্ষ্যে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে হন্ডুরাসের সান পেড্রো সুলা শহর হইতে যাত্রা শুরু করিয়াছে। শুরুতে দেড়শতের মতো মানুষ জোট বাঁধিলেও, চলার পথে ইহাদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়িতেছে। উন্নত জীবনলাভের একান্ত আশাবাদ ব্যতীত এই মানুষগুলির আর কোনো অবলম্বন নাই। গত তিন সপ্তাহের যাত্রাপথে সন্ত্রাসী, মানবপাচারকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই কাফেলার উপরে একাধিকবার হামলা চালাইয়াছে। ক্ষুধা ও বিশ্রামের অভাবের মতো নানান সমস্যায়ও তাহারা জর্জরিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষাবধি হাজার দেড়েকের মতো লোক হয়তো-বা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আসিয়া দাঁড়াইতে পারে।

এহেন একটি সমস্যাজর্জরিত মনুষ্য-কাফেলা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কীই-বা করিতে পারিবে? বড় জোর তাহারা বিক্ষোভ করিবে কিংবা মেক্সিকো বা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষীদের সহিত কিঞ্চিত্মাত্রায় সংঘর্ষে জড়াইবে। কিন্তু ট্রাম্পের নিনাদ শুনিয়া মনে হইতেছে যে, সীমান্ত-অভিমুখী মানব-কাফেলার প্রতিটি সদস্য বুঝি যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করিয়া ফেলিবার যাবতীয় প্রস্তুতি লইয়া মধ্য আমেরিকা হইতে যাত্রা শুরু করিয়াছে। এক হাজার কিংবা দুই হাজার নহে, ট্রাম্প মানব-কাফেলাটিকে ঠেকাইবার জন্য সামরিক বাহিনীর ১৫ হাজার সদস্যকে তলব করিয়া বসিয়াছেন। উল্লেখ্য, এই সংখ্যাটি হইতেছে আফগানিস্তানে বর্তমানে যত মার্কিন সেনা রহিয়াছে তাহার সমান। সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, ইতোমধ্যেই সেনারা মেক্সিকোর সীমান্তে যাবতীয় মহড়া শুরু করিয়া দিয়াছে। বলিতে কি, ট্রাম্প পুরো বিষয়টিকে একেবারে যুদ্ধাবস্থায় নিয়া ঠেকাইয়া দিয়াছেন। একই সঙ্গে তিনি ক্রমাগত বাক্য-বোমাও বর্ষণ করিয়া চলিয়াছেন। সীমান্ত অতিক্রম করিতে চাহিলে গুলির মুখে না পড়িলেও, যেকোনো ব্যক্তিকেই যে সুদীর্ঘ কারাবাস ভোগ করিতে হইবে ইতোমধ্যে তাহাও জানাইয়া দিয়াছেন তিনি। উল্লেখ্য, বত্সরের শেষাবধি এই তত্পরতা অব্যাহত থাকিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট হইতে দুইশত মিলিয়ন ডলার খরচ হইয়া যাইবে। উল্লেখ্য, ট্রাম্প এমন এক সময়ে এই ব্যয়টি করিতে যাইতেছেন, যখন কিনা তাঁহারই নির্দেশে সামরিক বাহিনীতে ব্যয় সংকোচনের কিছুটা চেষ্টা চলিতেছে।

ডোনাণ্ড ট্রাম্পের এই উদ্যোগটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা একটি রাজনৈতিক  চাতুরি বলিয়া মনে করিতেছেন। উল্লেখ্য, এই বৃহস্পতিবার হইতে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন শুরু হইতেছে। এই নির্বাচনে আইনসভার কংগ্রেসের দুইকক্ষের অনেক আসন ও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। এই নির্বাচন মাথায় রাখিয়া শ্বেতাঙ্গ বিদ্বেষবাদী ভোটগুলি একাট্টা করিবার উদ্দেশ্যতাড়িত হইয়া ট্রাম্প এত শোরগোল তুলিতেছেন বলিয়া ওবামার মতো অনেকেই মনে করিতেছেন। এই মনে করাটি ভাবিয়া দেখিবার মতো।


     এই বিভাগের আরো খবর