,

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতা খর্ব হতে পারে ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আজ (মঙ্গলবার)। নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চ কক্ষ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা আধিপত্য ধরে রাখতে পারলেও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারাতে পারে। আর এমনটা হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরবর্তী দুই বছরে যথেষ্টই বিপাকে পড়তে হবে।

অতীত ইতিহাস বলে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল সাধারণত ভাল করতে পারে না৷ বেসরকারি সংস্থা দ্য অ্যামেরিকান প্রেসিডেন্সি প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী অতীতের ২১টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রেসিডেন্টের দল মাত্র তিনবার সাফল্য পেয়েছে। আর সিনেটে জয় পেয়েরেছে মাত্র পাঁচবার৷

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া দুই মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুইবারই ডেমোক্র্যাটিক দল হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেটে আসন হারিয়েছে৷ উল্লেখ্য, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস হচ্ছে মার্কিন সংসদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, আর সিনেট উচ্চকক্ষ৷

আজ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর সব আসনে (৪৩৫) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে৷ বর্তমানে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সদস্য সংখ্যা ২৩৫, অপরদিকে ডেমোক্র্যাট দলের ১৯৩। কংগ্রেসের এই নিম্নকক্ষে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতে কমপক্ষে ২১৮টি আসনের প্রয়োজন।

অপরদিকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের আসন সংখ্যা ১০০টি৷ বর্তমান সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫১, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি৷ বাকি দুজন স্বতন্ত্র সদস্য৷

মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে আসতে পারে বলে দুই দলেরই বিশ্লেষকরা মনে করছেন৷ অপরদিকে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন আরও বাড়তে পারে৷ কারণ, ১০০ আসনের মধ্যে আজ মাত্র ৩৫টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের দখলে আছে ২৪টি আসন, আর রিপাবলিকানদের দখলে আছে মাত্র ৯টি। তাই রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের কিছু আসন এবার বাগিয়ে নিতে পারে বলে ধারনা করছেন বিশ্লেষকরা৷

বেকায়দায় পড়তে পারেন ট্রাম্প
এদিকে মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে ইমপিচমেন্ট বা ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে কমপক্ষে ৬৭ জন সিনেট সদস্যের সমর্থন লাগে৷ মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সে পরিমাণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা হয়তো থাকবে না৷ তবে তারা অন্তত কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষের নিয়ন্ত্রণ যদি পায়, তাহলে পরবর্তী দু’বছর ইচ্ছেমতো নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়৷


     এই বিভাগের আরো খবর